দীর্ঘদিন বন্ধ গ্রন্থাগার, বই-পত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলার পাঠককূল
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক : ৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে গ্রন্থাগার। তবে বইগুলি ঠিক রয়েছে কিনা, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাঠকরা। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছে রাজ্যের অনেক গ্রন্থাগার। এরপর করোনার প্রভাবে তা আরও বিপর্যস্ত। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসের শেষ দিকে করোনার কারণে লকডাউন পর্বে গ্রন্থাগার বন্ধ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত তা সম্ভব খোলা হয়নি। ৫ মাস ধরে ঘর বন্ধ থাকায় ঘরের মধ্যে ঠিক কেমন অবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে সংশয় বেড়েছে।
গ্রন্থাগারে রাখা আলমারিতে ঠাসা বই, পুঁথি, স্বাধীনতা সংগ্রামের নথি, মূল্যবান পান্ডুলিপির চেহারা এখন কেমন অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়েও পাঠকদের বড় অংশ প্রশ্ন তুলেছেন। এক্ষেত্রে পাঠকরা জানিয়েছেন, ৫ মাস অতিক্রান্ত গ্রন্থাগারের দরজা-জানলা বন্ধ। ভিতরে হাওয়া-বাতাস প্রবেশ করছে না। আবার বর্ষায় স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। এই সময় বই ভাল রাখাও মুশকিল। রাসায়নিক দিয়ে বই সংরক্ষণ করাও হচ্ছে না। সব মিলিয়ে বই নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে। অন্যদিকে জেলার গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক গ্রন্থাগারে কর্মী, পরিচালন সমিতির লোকজন, স্থানীয়রা গ্রন্থাগার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নিচ্ছেন। এমনকী ন্যাপথলিন দিয়ে বই সংরক্ষণও চলছে।
উল্লেখ্য, নদিয়া জেলায় প্রায় ১১০টি গ্রন্থাগার রয়েছে। ব্লক ও পুরসভা এলাকার মধ্যে এগুলি রয়েছে। যার মধ্যে কর্মী-সঙ্কটের কারণে ২৬টি গ্রন্থাগার ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সূত্রের আরও খবর, গ্রন্থাগারগুলির জন্য ২৪৮টি পদ অনুমোদন থাকলেও ১৭৮টি পদই শূন্য রয়েছে। এক্ষেত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র ৭০ জনকে নিয়ে প্রায় ৮৪টি গ্রন্থাগার চলছে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে। সব মিলিয়ে গ্রন্থাগারিক, সহকারি গ্রন্থাগারিক, জুনিয়র সহকারি গ্রন্থাগারিক, বই বাঁধাইকারী ও নিরাপত্তারক্ষী-সহ সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পাঠকদের উপরেই। পশ্চিমবঙ্গ সাধারণ গ্রন্থাগার কর্মী-সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মী-সঙ্কটের কারণে জেলায় একটি গ্রন্থাগারের একজন গ্রন্থাগারিককে দিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫টি গ্রন্থাগার সামাল দিতে হচ্ছে। এরফলে কাজের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা বেড়ে গিয়েছে।

